Sunday, December 13, 2009

আরিব্বাস

বাঙ্গালোরে-এর সেই সাত জনার কথা মনে আছে নাকি ? সেই যে ২০০০ সাল-এ যারা বাঙ্গালোরে-এ গিয়েছিল ?২০০০ সাল-এ অবশ্য বাঙ্গালোরে-এ কম লোক যায় নি. ট্রেন-এ করে বাঙ্গালোরে সেন্ট্রাল, বাস-এ করে ম্যাজেস্টিক, প্লেন-এ করে মুরুগেশ্পালিয়া হয়ে কাতারে কাতারে লোক গিয়েছিল. যেন একটা ধুম পড়ে গিয়েছিল বাঙ্গালোরে-এ যাবার. আমরা সাত জন সেই ধুম-ধারাক্কা-র সাথে বাঙ্গালোরে-এর জন-প্রপাত-এ গিয়ে পড়েছিলাম. তখন ভোর পেরিয়ে সবে সকাল উঁকি মারছে.

ম্যাজেস্টিক সেন্ট্রাল ট্রেন স্টেশন.

"ব্যাপক ঠান্ডা রে"
"জুন মাস-এ এমন ঠান্ডা হবে ভাবি নি"
"ফার্স্ট ক্লাস weather "
"স্টেশন-টা দেখেছিস ?"
"পুরো ঝাক্কাস"
"চারদিক পাহাড়-এ ঘেরা, আসার সময় দেখেছিলিস ?"
"কোথায় পাহাড় ?"
"চোখ-এ কিছু পড়েছিল?"
"আরে না না, পাশে ওই চেন্নাই-সুন্দরী-কে দেখে ওর হয়ে গিয়েছিল"
"অথবা, বাড়ি-র দু:খে চোখ ঝাপসা হয়ে এসেছিল"

ইত্যাদি কথা চলতে থাকে. কার চোখ ঝাপসা হয়ে এসেছিল আর কে চেন্নাই-সুন্দরী-কে দেখে মোহিত হয়েছিল, সেসব বিশদ করে আর অভিসম্পাত কুড়ালাম না. মোদ্দা কথা এই যে, আমরা সব বেঁচে-বর্তে-ই এমন স্বর্গ-মার্কা জায়গা-তে কেমন করে ল্যান্ড করলাম, সেটা আমরা-ই বুঝে উঠতে পারি না. আমাদের মতন আগমার্কা বঙ্গবাসী-দের কাছে সব কিছু-ই মায়া মনে হতে থাকে. সবকথা-তে-ই বিস্ময় ঝরে পড়ে সবার. বিস্ময়-এর ঘোর যে কাটে না তা নই কিন্তু, একজন-এর ঘোর আরেকজন চাগিয়ে দেয় আবার.

যা হোক, স্বর্গ-র হোটেল রামা-তে স্বর্গবাস চলল কিছুদিন. বিস্ময়-এর রেশ তখন বেশ কড়া ডোজে-ই. তিন-তারা হোটেল-এ আমাদের খাতির করে ঢুকতে দেয়, তাতে-ই আমরা আহ্লাদ-এ আটখানা, উপরন্তু যত খুসি তত খাও. বেশি করে খেলে-ও কেউ বকছে না. হাসি-মুখে আরও দিয়ে যাচ্ছে. প্রাত:রাশ-ই খাচ্ছি ভারত-এর সব প্রদেশ-এর মিশিয়ে. ব্যাপার-খানা ভাবুন একবার. সেই আরও খেয়ে আর আরও শুয়েই দিন সাতেক কাটিয়ে দেওয়া গ্যালো.

অত:পর তিন তারা থেকে তিনতলা একটা বাড়ি-তে আমাদের গৃহপ্রবেশ. সেই বাড়ি দেখে-ও বিস্ময়-এর নতুন রেশ জাগলো. বাড়ি-র ঘর-গুলো গুনে গুনে শেষ করে আবার গুনি, মেলে না গুনতি-তে. তিনটে তলা-র একটি আছে মাটি-র নিচে,আবিষ্কার করলাম. বিস্ময়-এর সপ্তম স্বর্গ-এ ঘুরতে ঘুরতে প্রথম আছাড় খেলাম - সক্কলে একসাথে প্রথম দিন অফিস যাবার সময়.

অফিসওয়ালারা বলে দিয়েছে অফিস চলে এসো. এতদিন খাইয়েছি, পরিয়েছি, শুইয়েছি, এবার কিছু খেল দেখাও তো চাঁদু. সেই খেল দেখাতে গিয়ে প্রথম দিনেই আমাদের আক্কেল গুড়ুম. সমস্যা দেখা দিল অনেকগুলো, স্বর্গসুলভ সমস্যা নয় মোটে-ও সেগুলো. বেশ জটিল জটিল সমস্যা. প্রথমত: অটোওয়ালারা রাষ্ট্রভাষা বোঝে না. দ্বিতীয়ত: অফিস-এর ঠিকানা দেখাতে তারা দু-হাত তুলে দিল. মানে, একপ্রকার যাবে-ই না. তার মধ্যে, ওরা কেন হিন্দী বলবে না, সেই নিয়ে একটা তর্ক দাঁড় করাবার চেষ্টা করলো আলুদাস (৭-মানিক-এর এক জন). অটোওয়ালারা আমাদের স্পর্ধা দেখে বিলক্ষণ চটে গ্যালো. যেটুকু রাষ্ট্রভাষা বুঝছিল তাও আর বুঝতে চাইল না. অগত্যা প্রথম দিন-এ-ই অফিস কামাই হবার সমূহ সম্ভাবনা দেখা দিল. যেটা কাজ-এর কথা নই, নিতান্ত-ই অকাজ-এর কথা.

"এই তো, এটা চেনে রে, চলে আয়" - হাঁক পাড়ল কাকা (দ্বিতীয় মানিক).

দেখি কাকা কোত্থেকে সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত উদ্যোগ-এ একটা আস্ত অটো ম্যানেজ করে ফেলেছে. করিতকর্মা ছেলে. তা যখন একটা করেছে, তখন আরও করে ফেলবে, সেই ভরসা-তে-ই আমরা ৬ জন দুদ্দাড় দৌড় দিলাম কাকা, থুড়ি কাকা-র অটো-র দিকে. কাকা-র অটো-র কাছাকাছি যেতে পারিনি, দেখি কাকা কেমন করে অটো-র বাইরে থেকে ভিতরে সেঁধিয়ে গ্যাছে. পুরো পি সি সরকার-এর মতন. এই বাইরে ছিল, এই ভিতরে ! আমরা বাকি ৬ জন, ৩-তে সিটের জন্য গুঁতাগূঁতি করতে লাগলাম. ব্যাপার-স্যাপার দেখে অটোওয়ালা স্বয়ং নেমে এলো. আমি তত্খনাত ওই সিট-তা দখল করে বসলাম.

"আরে উন্হা পর .." অটোওয়ালা নিজের অটো-তে ঢুকতে চেয়ে আমার সাথে পাঙ্গা নিতে থাকে. আমি রাষ্ট্রভাষা-তে আমার সীমিত পুঁজি সহায়ে আমার অবস্থান বিশদ করি. কলকাতাতে কতবার অটোওয়ালা-র কোলে চেপে গেছি, এই ধাড়ি বয়স-এও , সাতকাহন করে দি একেবারে.

"আব্বে সি আর, ক্যালানে, নেমে আয়". আমি ক্লাস রেপ্রেসেন্টাতিভ মানে সি আর ছিলাম. আর এই মধু কন্ঠ শ্রীমান আর এম -এর. আর এম গুঁতিয়ে ভিতরে ঢুকতে পারে নি দেখলাম. আমায় বের করে দল ভারী করছে.
"নামব মানে, অফিস যেতে হবে না ?" আমি বলি.
"ফ্রন্ট সিট-এ বসে যাবি নাকি ?"
"তোর বেশী কেত থাকলে তোকে যেতে কে বলছে ? আমাকে টায়ার-এর উপরে বসিয়ে দিলে-ও চলে যাব." আমি অটো-র সাথে জুড়ে থাকি, লেজুড়-এর মতন.
"ওখানে বসা allowed নয়." বি সি বিশদ করলো. বি সি আমাদের মানিকজোড় ভাই-দের একজনা. অন্যজন এস সি.

"য়েহি তো বোল রাহে হ্যায়. চার আদমী লে সকতে হ্যায় লেকিন, পিছে বৈঠনা পড়েগা." অটোওয়ালা জানালো.

আর বৈঠনা পড়েগা. পিছনে কাকা, আলু, দেবু, এস সি পুরো ফেভিকল-এর মতন জুড়ে বসে গ্যাছে. ওদের এত দহরম মহরম আমার মোটেও ভালো লাগলো না. নেমে এলাম ব্যাজার মুখে. "আর একটা অটো জোগাড় করে নে, আসে পাশেই পেয়ে যাবি." ভিতর থেকে আলুর আশ্বাস ভেসে এলো.

"তুই নেমে এসে জোগাড় করে দে না" বললাম আমি.
"কাম অন বয়েজ, উই উইল গেট ওয়ান" আর এম আমাকে আর বি সি-কে আহবান জানালো. অগত্যা. চোখ-এর সামনে দিয়ে একটা জলজ্যান্ত অটো আমাদেরই চার জনকে নিয়ে চলে গ্যালো. অফিস-এ দেরী হওয়া কপালে জ্বলজ্বল করছে দেখতে পেলাম. স্বর্গে ট্রান্সপোর্ট মোটেও স্বর্গীয় নয়.

"অটো"
"অত্তো"
"অটো-ও-ও-ও"

মাদারী-র খেলার মতন আমরা হাঁক পাড়তে শুরু করলাম. কোথায় অটো ? কিছুক্ষণ পারে আবিষ্কার করলাম আমি আর বি সি দুজন দুজনার মুখের দিকে তাকিয়ে অভ্যাস-এর ঠেলা-ই অটো অটো বলে চিল্লে যাচ্ছি.

কিছুক্ষণ হাঁক-ডাক-এর পরে, হঠাত একটা বাস দেখা দিল দিগন্ত জুড়ে.

"এখানে আবার বাস চলে নাকি" বি সি বিস্মিত. স্বাভাবিক. সকাল থেকে অটো, ট্যাক্সি, গাড়ি সব-ই দেখেছি, বাস ছাড়া.
"নিশ্চই আছে, আফটার অল এটা সফটয়ার সিটি, ওদের একটা ওয়েবসাইট-ও আছে, আমি জানি". আর এম বিদ্যে জাহির করলো.
"জিও মামা, তাহলে এটাতে-ই তো চড়ে পড়া যেতে পারে, সস্তা-ও হবে." আমার পুলক ঝরে পড়ে. অটো-টা চলে যাবার দু:খ ভুলে যাই বেমালুম.
"দাঁড়া আগে, এটা কোথায় যায় দেখি."
"কোথায় যায় দেখতে গ্যালে তো উঠে পড়াই ভালো, নাম্বার তো সব দক্ষিণী ভাষা-তে." বি সি জানায়.
"নিশ্চই, উঠে একদম শেষ দেখে আসাই আমার মত." আমি-ও মতো:প্রকাশ করি.

আমাদের মতামত -কে তোয়াক্কা না করে আর এম বাস স্ট্যান্ড-এর ধুসর হয়ে আসা একটা মানচিত্র পর্যবেক্ষণ করতে লাগলো. ওটা মাটি খুঁড়ে পাওয়া গ্যাছে বলে মনে হলো আমার. আর এম কে জানালাম-ও সেটা. তাছাড়া স্বর্গ-র ঠিকানা-তে ভালো-ই গোল পাকাচ্ছিলাম আমরা. ক্রস-এর মেন আর মেন-এর ক্রস-এ বেশ জেরবার হয়েছি কয়েকদিন. কিন্তু, আমাদের প্রযুক্তিবিজ্ঞান-এর পাঠ-কে আর এম অস্বীকার করতে রাজি হলো না মোটে-ও. বলল - "সব কিছু-র একটা সিস্টেম আছে". ইতি মধ্যে বাস-টা আমাদের পাশে এসে দাঁড়িয়েছে.

"বি সি, বাস কন্ডাক্টর-কে জিগ্গেস করে দ্যাখ না."

বি সি উদ্যোগ নিল. গলা খাঁকারি দিয়ে বলল - "কাসেল স্ট্রিট যাতাা হেয় কেয়া ?"
"£%%)!+(!_£+"

কন্ডাক্টর কিছু একটা বলল বুঝলাম, কিন্তু কি বলল তার বিন্দু বিসর্গ-ও বোধগম্য হলো না.
"করপোরেসন করপোরেসন" আমি সোত্সাহে জিগ্গেস করলাম আবার.
ভীমবেগে কন্ডাক্টর উপর নিচে মাথা দোলাতে লাগলো. আর পায় কে ?
" আর এম, বি সি, চলে আয়, করপোরেসন যাবে"

এক লাফে তিন জন বাসে চড়ে পড়লাম.
"বাস-এ করেই তাহলে রোজ অফিস যাব, কি বলিস" আমি মহানন্দে প্রস্তাব পেশ করলাম.
"ঠিকই বলেছিস, অটো-র জন্য রোজ গলা না ফাটিয়ে, বাস-এর জন্য অপেক্ষা করা-ই ভালো" বি সি সায় দিল.
"আর এরকম ফাঁকা বাস পেলে তো কথা-ই নেই." আর এম-ও উত্সাহিত.

কন্ডাক্টর এসে সুলভে কিছু টিকিট বেচে দিয়ে গ্যালো. আমি বাস-এর লাস্ট সিট থেকে উঠে অর্ধেক বাস পেরিয়ে সামনের সিট-এ বসতে গেলাম. পিছনের সিট-টা ভাঙ্গা আর বাস-টা লাফাচ্ছে ভালো-ই. খুব একটা আরামদায়ক ব্যবস্থা নয়. বিশেষত পেট-এ ইডলি আর সম্বর ডাল নিয়ে.

আমি গুছিয়ে বসতে যেতে-ই না "£%%)!+(!_£+" - গলা ভেসে এলো কন্ডাক্টর-এর.
"টিকিট দেখতে চাইছে বোধহয়" - বি সি চেঁচিয়ে বলল. পাগল নাকি ? এক মিনিট-ও হই নি আমরা টিকিট কেটেছি. এর মধ্যে টিকিট দেখতে চাইছে ? হতে-ও পারে. স্মৃতি-বিভ্রম, অল্জ্হেইমের রোগ - কত কি হয়. এই সব ভেবে আমি হাত তুলে টিকিট দেখিয়ে, জানালা-র ধারে বসে পড়লাম. কিন্তু কন্ডাক্টর তাতে-ও খুসি নয়. আমার পাশে এসে দাঁড়িয়ে, আমাকে কটমট করে দেখতে লাগলো. আর ওই অপূর্ব ভাষা.
"এই তো টিকিট" - আমি গোদা বাংলা-তে বলে টিকিট-টা আবার নাচিয়ে দেখালাম.
কন্ডাক্টর আর অবোধ্য ভাষা-র ধার দিয়ে না গিয়ে আঙ্গুল তুলে একটা কি দেখিয়ে দিল. দক্ষিণী ভাষা-তে-ই লেখা !

"কান্নাড়া গোত্তিল্লা" - কান্নাড়া ভাষা-তে-ই বলে দিলাম যে কান্নাড়া জানি না. সে তখন আঙ্গুল উপরে তুলে দেখালো. একটা মা আর কোলে বাচ্ছা-র ছবি.
"সি আর, হুতুম, ওটা লেডিজ সিট" আর এম-এর গলা পেলাম. দেখতে পেলাম না. বাস-টা ক্রমশ বোঝাই হয়ে উঠছে. এবং অদ্ভুত ভাবে.

এতক্ষনে কন্ডাক্টর-এর কান্নাড়া আমার কাছে জল ভাত হয়ে গ্যালো. এই কান্ড. পুরো সামনের অর্ধেক অংশ লেডিজ আর পুরো পিছন-টা-ই ছেলে-দের. অদ্ভুত ভাবে প্রচুর লোক বাস-এর দ্বিতীয়ার্ধে গুঁতাগূঁতি করছে. বাস-এর সামনের অর্ধেক নারী-সাম্রাজ্য অরক্ষিত থাকলে-ও, তাকে ভবিষ্যত-এর সুরক্ষিত করার দায়িত্ব কন্ডাক্টর একা-ই নিয়েছে. সুর্সুড় করে বাস-এর শেষ অংশে এসে ধাক্কাধাক্কি করতে লাগলাম. আজব জায়গা রে বাবা !
"বি সি - আছিস ?"
"না নেই - থাকলে দেখতে পেতিস না ?" বি সি-র ক্রুদ্ধ কন্ঠস্বর ভেসে এলো.
"আর এম - করপোরেসন খেয়াল করিস"
"কি করে খেয়াল করব বল তো ?"

তা বটে. শুধু অগুন্তি মানুষ-এর মাথা ছাড়া কিছু-ই দেখা যাচ্ছে না. নরমুন্ড-সমুদ্র. টাক-মাথা, চুল-মাথা, পাতলা-চুল-মাথা, ঘন-চুল-মাথা, মিলিটারী-মাথা, রজনীকান্ত-মাথা. হটাত্ প্রবল শব্দে বাস-টা থামল. তার পারে-ই সমুদ্র-র ঢেউ-এর মতন সবাই নামতে লাগলো. আমি নিজেকে রোধ করতে গেলাম কিন্তু, সুনতে পেলাম বি সি-র গলা- "করপোরেসন, নাম নাম". চটজলদি নেমে গেলাম. আ:মুক্তি.

রাত্তির-এ আড্ডা-র সময় কিছু বাগবিতন্ডা হলো. আমরা বাস-এ ভালো গেছি না ওরা অটো-তে ভালো গ্যাছে, সেই নিয়ে. বাস-এর ভূয়সী প্রশংসা করলাম. ভিড়, অর্ধ-নারী-পুরুষ configuration, ভাঙ্গা সিট - সব-ই চেপে গেলাম. আর নগদ অর্থমূল্য-র ব্যাপার-টা তো ছিল-ই. অটো চড়ে ওদের ভালো-ই খসেছে. সেই উপলক্ষে অটো যাত্রী-রা আমাদের তিন জন-এর কাছ থেকে একটা ট্রিট দাবি করে বসলো. এরকম হটাত্ ট্রিট -এর অসংখ্য দাবি আমরা সুনতে অভ্যস্ত ছিল কলেজ জীবন থেকে-ই. সুতরাং সেটা কাটানো গ্যালো. যাই হোক, পরদিন থেকে সবাই স্বর্গ-র পাবলিক ট্রান্সপোর্ট বাস-ই ব্যবহার করব স্থির হলো.

পরদিন সকাল.

বাস-এর নাম্বার-টা কেউ-ই আমরা খেয়াল করিনি. কেন করিনি, সেই জন্য দেবু আমাকে আর এস সি, এস সি-র ভাই অর্থাত্ বি সি-কে কড়া করে বকে দিল. নীরবে হজম করলাম না অবশ্য. বললাম - "আমরা তো তাও বাস আবিষ্কার করেছি, নাম্বার-টা না হয় তোরা আবিষ্কার কর." কেন নাম্বার-টা দেখে রাখা উচিত ছিল, ইন ফ্যাক্ট কেন সঙ্গে একটা নোটবই রাখতে হই এই সব টুকে রাখার জন্য, সেই নিয়ে কাকা জ্ঞান দিতে লাগলো. সঙ্গে দেবু-ও যোগ দিল. ওর দুর্গাপুর থেকে কলকাতায় এসে মানুষ হবার কাহিনী-ও শোনাতে ছাড়ল না. ততক্ষণ-এ একটা বাস দেখা দিয়েছে.

"করপোরেসন ? করপোরেসন ?" আমি আগের দিনের ফর্মুলা প্রয়োগ করলাম. এবং চিচিং ফাঁক. কন্ডাক্টার ভীমবেগে উপরে নিচে মাথা দোলাতে থাকে. এক লাফ-এ সবাই উঠে বসতে যাই. এবং আবিষ্কার করি যে আজকে ভিড়-টা ভালো-ই. বেশ বেশি রকম-এর ভালো. আমাদের স্টপেজ-এর আগে থেকে-ই প্রচুর লোক উঠে গ্যাছে. আমি আর দেবু কিছুক্ষণ কুস্তি-র পর একবার উপরে তাকিয়ে দেখি, বাস-এর পিছন-এর সিট-এর জানালা থেকে কাকা আমাদের দিকে তাকিয়ে হাসছে. ম্যাজিক নাকি ? কখন উঠলো ? সামনে এখনো প্রচুর পাবলিক. আর কাকা-র হাসি দেখে মনে হলো, আমরা ধীরে সুস্থে সিঁড়ি দিয়ে উঠে বসার জায়গা খুঁজে নিচ্ছি না কেন ?

কোনমতে বাস-এ উঠে, আমার পাশেই দেবু-কে খুঁজে পেলাম.

"কাকা কখন উঠলো বল তো দেবু ?"
"শুধু ওঠে-ই নি, সিট-ও ম্যানেজ করে ফেলেছে !"

সেটা বেশ ঈর্ষাজনক ব্যাপার কারণ আমরা আমাদের পায়ের তলার জমি-ই পাচ্ছিলাম না যাকে বলে. ক্রমশ: গোড়ালি উপর দিকে তুলতে হচ্ছিল.

"কাকা-টা গাম্বাট আছে"
"গাম্বাট ও গোঁয়ার"
"বয়স তো কম হই নি সি আর, কাকা-র অভিজ্ঞতা-র একটা দাম আছে" দেবু আক্ষেপ করে আমাদের অনভিজ্ঞতা-র জন্য. কাকা একটু বয়:বৃদ্ধ ছিল. কাকা নামকরণ সার্থকতা নিয়ে কেউ সন্দেহ করি নি কোনদিন.
"আমি কিন্তু সব শুনতে পেয়েছি" - কোত্থেকে আলু-র গলা ভেসে এলো.

এদিক ওদিক তাকিয়ে দেখি, কোত্থেকে নরমুন্ড-সমুদ্র-র মধ্যে আলু-র মাথা ভুস করে উদয় হলো. মুখে একগাল হাসি. কাকা-কে কমপ্লেন করে দেব - ভাবখানা এই রকম. আমি বিশেষ গা করলাম না.
"সে তো কান থাকলে-ই লোকে শুনতে পাই, এতে আবার জাহির করার কি আছে ?" দেবু ওকে নিরুত্সাহ করতে চেষ্টা করে.
"কাকা-কে বলে দেব" আলু-র স্ট্রেট থ্রেট.
"মানে - কি করবে কাকা ? কি বলতে চাস তুই?" দেবু একটু রাগত কন্ঠে-ই বলল.
"তোকে-ই কেলিয়ে দেব." দেবু-র সাথে আমি-ও তাল ঠুকলাম.

কথা এগোনোর আগে সেই আগের দিন-এর মতন একটা প্রবল কলরব ভেসে এলো এবং আমরা জনস্রোত-এর সাথে করপোরেসন-এ নেমে গেলাম.

রাত্রে দেবু আর আমি পাশাপাশি শুতাম, কাকা অন্য ঘর-এ. দেবু-র পাশে বি সি আর তার পাশে আলু.
"এ ভাবে চলতে পারে না" - আমি বলি.
"কি ব্যাপার ?"
"এত হাঁচড়-পাঁচোড় করে অফিস যাওয়া যায় নাকি রোজ রোজ"
"কে বলেছে এমন ভাবে যেতে, সিট নিয়ে বসে পড়লেই হয়" - দেবু দাবি করলো.
"সেটাই তো বলছি, সিট পাওয়া যায় নাকি ? রাবন-এর গুষ্টি লোক বাসে."
"আরে আমাদের দুর্গাপুর লোকাল-এ এর থেকে বেশী ভিড়-এও আমি সিট ম্যানেজ করেছি" - দেবু বলে.
"আরে আমিও সে বনগাঁ লোকাল-এ শিয়ালদা থেকে বিকেল পাঁচ-টাতে বসে বসে গেছি" - আমিও বলতে ছাড়লাম না.
"আরে আমিও SD8 -এর জানালা-র ধারে বসি বরাবর"
"আমি অফিস টাইমে ৭৬-এ দেখেশুনে সিট পছন্দ করে বসি"

কিছুক্ষণ চলল এই রকম.

"ও: তোরা ঘুমোতে দিবি না দেখছি. যা না, যেখানে পারিস বাস-এ উঠবি যা না. শুতে এলি কেন ?" বুঝলাম বি সি-র ঘুম-টা আটকে গ্যাছে, আমাদের সিট পেতে গিয়ে.
"সরি সরি, তুই ঘুমো". দুজন-এ দুপাশ ফিরে শুয়ে পড়ি.

পরদিন বাস স্ট্যান্ড, আজ-ও লোক থৈ থৈ করছে. যত কান্নাড়া করপোরেসনএ - মনে মনে ভাবছি. কাকা বলল - "হমম, পপুলেশন-টা দিনকে দিন হাত-এর বাইরে চলে যাচ্ছে."
"যা বলেছিস. পপুলেশন বাড়ছে আর সবাই গিয়ে করপোরেসন-এ সেই বৃদ্ধি রেজিস্ট্রি করে আসছে" - সখেদে জানালাম আমি.
দেবু মুখ গোমড়া করে দাঁড়িয়ে আছে. আলু মহা উত্সাহী - আজকে ওকে অফিসে নতুন একটা কি software শেখাবে. সেটা-ই মহানন্দে বি সি, আর এম - এদের বলছে. কাকা সেই দল-এ যোগ দিল. একবার ভাবলাম, কাকা-র পাশ ঘেঁষে দাঁড়াই. কাকা-র হাত ধরে সত্যিকারের ভাইপো-র মতন না হয় উঠে যাব. কাকা বয়সে বড়, প্রচুর অভিজ্ঞতা - একটু না হয় ধার নিলাম.
"দেবু, চল কাকা-র পাশে গিয়ে দাঁড়াই"
"চল"

দেবু আমার প্রস্তাব কি ভেবে সায় দিল বুঝি নি. কিন্তু, দুজনে অনুগত শিষ্য-র মতন কাকার পাশে গিয়ে দাঁড়িয়ে পড়লাম.

"কাল কি করে সিট-টা পেলি বল তো কাকা, ওই রকম ভিড়-এর মধ্যে ?" আর এম জিগ্যেস করলো.
আমি আর দেবু মুখ চাওয়াচাই করে কান খাড়া করলাম. মাজিক ফর্মুলা যদি কিছু পাওয়া যাই.

"উঠতে উঠতে অভ্যাস হয়ে গ্যাছে" কাকা তুচ্ছ ভাবে ফর্মুলাটা নামিয়ে দেয়.
"তুই দাবি করছিস এক্সপেরিয়েন্স-টাই সব." দেবু বলল থাকতে না পেরে.
"না তো কি ?" কাকা অনায়াসে নস্যাত করে দিলো.
"মানতে পারলাম না" আমি জানালাম.
"তুই আয়, কাকা তো সিট পেয়েছিল আর তুই তো বাস-এই উঠতে পারছিলিস না" - আর এম দাঁত কেলিয়ে জানালো.

বেজায় রাগ হলো আমার. এত বড় কথা, এত অপমান. ছ্যা ছ্যা.
বাস-টা তখনি দেখতে পেলাম আসছে. কাঁধে ব্যাগ-টা দুই পাক জড়িয়ে নিলাম. এসপার-ওসপার. আমি বাস-এ উঠতে পারি না. বললে-ই হলো ?
বাস-এর retardation -টা আন্দাজ করে একটু সরে দাঁড়ালাম. কাকা-র কাছ থেকে দরজা এগিয়ে আমার সামনে-ই আসছে একেবারে. কিন্তু - এ কি ? দরজা-টা কাকা-কে ক্রস করে বেরিয়ে যাবার মুহুর্তে দেখি কাকা দরজা-টা ধরে নিয়েছে. তার পরে, দরজা জুড়ে ওর ১ মিটার ব্যসার্ধ-র যে অর্ধবৃত্ত-টা তৈরী হলো, তাতে আমি আর দেবু একটু ছিটকে গেলাম. বেশ কয়েকজন স্থানীয় লোক অল্পবিস্তর ধাক্কা খেলো. বি সি আর এস সি হাঁ করে কাকা-কে দেখতে লাগলো. পুরো সার্কাস.
সে এক অবর্ণনীয় দৃশ্য. কাকা নিজে বাসের ডানা হয়ে সমস্ত প্রতিযোগীদের ছিটকে দিলো. বেনহুর-এর দুনিয়া-কাঁপানো রেস-এর দৃশ্য যেন. সম্বিত ফিরতে আবার বাসে ওঠার জন্য আমি আর দেবু দেখি পাশাপাশি যুঝে যাচ্ছি. এবং ? এবং সেই পরমারাধ্য কাকা বাসের পিছনের সিটের লোভনীয় জানালা-র পাশের সিট থেকে আমাদের দিক-এ তাকিয়ে আছে ! আবার হাসছে !!

বাসে উঠে দেবুকে শুধাই - "এটা কি হলো দেবু ?"
দেবু - "কাকা হাইলি কান্নাড়া পাবলিক-গুলোর কাছে ক্যাল খেয়ে যেতে পারতো. "
"ওই ভাবে রিস্ক নিয়ে ওঠাটা ঠিক হয়নি"

"নাথিং ইজ রং ইন লাভ য়্যান্ড ওয়ার " - আলুর গলা ভেসে আসে.
"আলু - তুই ফোট তো এখান থেকে, সব সময় কাকার হয়ে ওকালতি করবি না"

দেবার রুদ্রমূর্তি দেখে আলু চেপে যায়. আমার কানে ভাসতে থাকে কাকার অমোঘ উক্তি - "উঠে উঠে অভ্যাস হয়ে গেছে. "
এক্সপেরিয়েন্স? শুধু এক্সপেরিয়েন্স-ই আমাদের মতন তরুণ-দের হার মানাচ্ছে ?

আবার রাত. আবার আমার আর দেবুর জল্পনা.

"দেবু, কাল কাকার আগে উঠতেই হবে."
"দেখছিস তো কিরকম লোড নিয়ে ওঠে, পারা মুশকিল আছে."
"তোরা বাসে ওঠা নিয়ে এত উত্সাহিত কেন বলত?" - বি সি ঘুমোতে চাইছে বুঝলাম.

"তুই আর কি বুঝবি ? জিন্দগী-তে তো ল্যাব আর ল্যাব-রিপোর্ট ছাড়া কিছু বুঝলি না." আমি অক্লেশে থামিয়ে দিলাম.
"না -না বুঝব, বোঝা না" - বি সি আমাদের দল-এ ভিড়তে চায় মনে হলো.
"আগে বল দেখি, হামকো হামিসে চুরালো-তে ঐশ্বর্য রাই কি রং-এর শাড়ি পরেছিল ?" দেবু কড়া প্রশ্ন ছুঁড়ে দেয়.
" তখন তো হোলি খেলছিল, রং-টা তো বোঝাই যাচ্ছিল না." - বি সি-র নির্মল উত্তর.
"তুই ফোট, তোর মগজে কেন আমরা আগে বাসে উঠতে চাই - সেটা ঢুকবে না."

আমরা নিজেদের মধ্যে আলোচনাতে প্রবৃত্ত হলাম আবার. কাকার অস্ত্র অর্থাথ এক্সপেরিয়েন্স দিয়েই ওকে ঘায়েল করতে হবে ভাবলাম. কিন্তু, বাসে ওঠা আর প্র্যাকটিস করবো কোথায় ?

"আচ্ছা দেবু, আগের স্টপেজে গিয়ে উঠে পড়া যায় না?"
"তা যায়. তবে, আগের স্টপেজে-ও যদি ভিড় থাকে?"
"তার আগের স্টপেজে.."

বাসের টার্মিনাস অব্দি যেতে দেবুর সায় নেই বুঝলাম. শেষ পর্যন্ত দেবু কাকাকে ট্যাকেল করবে আর আমি বাসে উঠব - এই প্ল্যান স্থির হলো. ঘুমিয়ে ঘুমিয়ে এন্তার বাসে চড়লাম, বাস থেকে নামলাম. রানিং বাসে চেপে কন্ডাক্টর-কে কেলিয়ে লেডিজ সিটে বসে আবার রানিং বাস থেকে নেমে পড়লাম. সব মিলিয়ে ভালোই প্র্যাকটিস হল.

পরদিন সকালে আবার বাস-স্টপে. আজ আর ব্যাগ হাতে নিই নি. আমার ব্যাগ বি সি-কে ধরিয়েছি আর দেবুর ব্যাগ আলুর কাছে. পুরো মুক্তহস্ত. একটাই সাধন মন্ত্র জপ করে যাচ্ছি আমি আর দেবু.
দেখতে দেখতে বাস-ও দেখা দিলো দূরে. দেবু পজিসন নিয়ে নিল কাকার পাশে.

"আরে দেবু, ব্যস্ত হচ্ছিস কেন? এটা করপোরেসন যাবে না." হঠাত্ কাকার গলা.

সত্যি তো, এটা অন্য নাম্বারের বাস আসছে. কিন্তু, কিন্তু, কাকা দেবুর ব্যস্ততা বুঝে গ্যালো কি করে? টের পেয়ে গেছে নাকি প্ল্যান-টা ? আলু জাসুসি করলো নাকি শেষে ? নাকি বি সি. তীরে এসে তরী ডুবে যাবার উপক্রম দেখতে পাই. বাস-স্টপ-এর এক কোণ-এ দেবুর সাথে নিভৃতে আলোচনা সেরে নিলাম আরেকবার. দেবু আস্বস্ত করলো, কাকা জানলেও কুছ পরোয়া নাহি. বিনা যুদ্ধে ও সুচগ্র মেদিনী-ও ছাড়বে না. নিশ্চিন্ত হলাম.

"এবারে আমাদের বাস আসছে দেবু", বাস-টা দেখতে পেয়ে রেডি হতে বললাম ওকে. ফিসফিসিয়ে.

বাস-টা কাছে আসতেই আগের দিনের মতন retardation-টা খেয়াল করে যেখানে বাস-টার দরজা দাঁড়াবে তার থেকে আগেই গিয়ে খাড়া হলাম দুজনে. কাকাকে দরজা ছুঁতে দেওয়া যাবে না, একই সঙ্গে দরজাটা আমাকে ধরতে হবে. বাসটা আসতেই কাকা আর আমি একসাথে গেটের দিকে হাত বাড়িয়েছি. এক ফুল দো মালি. দেবু, দেবু কোথায়.. কাকা প্রায় ধরে ফেলেছে দরজা. আমি আর দরজার তোয়াক্কা না করে বাসের ভিতরের উদ্দেশ্যেই লাফ মারি একটা. কোঁত করে কাকার একটা হাত লাগলো আমার পাঁজরা-তে. ব্যথার মধ্যেও আবিষ্কার করলাম, বাস এখনো পুরো থামেনি - আমি বাসেরমধ্যে !!!

ঝটিতি সিট দখল করে নিই একটা. জানালার ধারেই. বাকি জনতা উঠতে শুরু করেছে তখন. দেবু উঠে এলো - কাকার আগেই! অনেক পরে
কাকা. ভিড়ের মধ্যে ওর ব্যাগ-টা চোখে পড়ল. মাথার টাকটাও ধস্তাধস্তিতে প্রকট হয়ে উঠেছে. কাকাকে জ্যাঠা মনে হচ্ছে.

"সি আর, উই হ্যাভ ডান ইট" - সাফল্যে দেবুর ইংরাজি বেরোতে থাকে.
"ইয়েস" - আমিও জানান দিই.
"কিন্তু, তুই ছিলি কোথায় ? কাকা আমাকে যা একটা পাঞ্চ করেছে" - পরক্ষণই জিগ্গেস করি.
"আমি তো দেখলাম, তুই উঠতে পারছিস না, তাই কাকাকে ট্যাকেল-এর দায়িত্ব কাটিয়ে নিজেই উঠে এলাম."
"আমি উঠতে পারছিলাম না মানে? আমিই তো উঠলাম"
"আরে সে তো আমি পিছন থেকে ধাক্কা দিলাম বলে"
"ঢপ বাদ দে, আমি নিজে-ই য়াঙ্গুলার একটা লাফ দিলাম, আর তুই ধাক্কা মারার গল্প বললেই শুনব?"

অবশ্য তর্কটা বেশিদূর গড়ায় না. কারণ, বি সি, এস সি, আলু, আর এম - সক্কলে আবিষ্কার করলো আমি সিটে ! কাকা তো জানে ভালমতনই . আমি উদার হয়ে সবাইকে
সিটে বসতে আহ্বান করি - ভালোমতন জেনেই যে এই জনসাগর পেরিয়ে আমার কাছে কেউই আসতে পারবে না. কাছাকাছি দেবুই ছিল. করপোরেসন-এর পথে আমি দেবুকে বসতে দি. আবার একটু বাদে দেবু আমাকে বসতে দেয়. ওই একখানি সিট আমাদের সমস্ত বন্ধুত্বর ভার বইতে থাকে.

কর্পোরেসনের জনস্রোত পেরিয়ে ডাঙায় উঠেই দেবু বলল,

"সি আর, এক্সপেরিয়েন্স কিছু নই বুঝলি."
"সে তো আমি আগেই বলেছি"
"এ হলো তারুন্য-র জয়"

আমার পাঁজরাটা বেশ টনটন করছিল. বুকে হাত দিয়ে বলি - "সেই তরুণদেরকেই ল্যাদ কাটিয়ে তারুণ্যের জয়-পতাকা তুলে ধরতে হয় - এই যা."

No comments:

Post a Comment