Tuesday, February 21, 2017

একুশের ভোর

বর্ণা, তোর চিবুকে রইল অতীতের

অগ্রন্থিত অশরীরী কাব্য, সুবিস্মৃত।
অচিন একলা পথতটে, ধূসরিত
মরুপার জুড়ে, ঘুমিয়ে রয়েছে সব
অবৃষ্টিত আষাঢ়ের কাজল শৈশব।

বর্ণা, তোর বিরহসঞ্চিত বেদনার
আসমানি গোলাপ; নিয়েছে শতবার
উষ্ণ প্রলাপ, আর দুর্লঙ্ঘ্য কাঁটাতার।
মিছে অভিমানে ভেসে যাওয়া আস্তর।
ডেকে গ্যাছে গোপনে - ইশ্বরিত অক্ষর।

আজ জানি তোর, একুশে রাঙানো ভোর।
আজ দেখি তোর, একুশে আবেশে ভোর।

তোর বাংলায় বিষাদে ভাসানো দিন,
তোর বাংলায় স্বপনে রাঙানো ঋণ।
তোর বাংলায় জলতরণীর ডানা,
তোর বাংলায় উঠোনে ঝরানো সোনা।

বর্ণা, আজ ভাষাকে নিয়েছি কণ্ঠে, প্রাণে
শব্দলালিম বাংমনোময় দোলায়
অক্ষরপ্রানা, ফুটেছে হাজারো বীণায়;
অনন্তবেলা বসন্তধূপ বিকিরণে,
গোধূলিপিয়াসী চরাচর দিলো মনে।

বর্ণা, আজ যমুনার কানে বাংলা-র
বাঁশি, ভ্রমরের মতো নিভৃতে কুহরে
বাজে, তারাচুম্বিত তাজে, বসন্তপ্রহরে।
বিন্দুমহিম আঁধারে, ছায়াপথ ঘিরে
কোটি কোলাহল, রয়ে গ্যাছে ভাষাতীরে।

বর্ণা, তোর ভালোবাসা চিনেছি একুশে
তোর অতীন্দ্রিয় মৃদুমন্দ্রিত পরশে,
ভরেছে আমার আকাশে, অপূর্ণক্ষণে
বাংলা আমার গোপনগামিনী মনে।

বাংলা আমার বসন্তবর্ণী প্রেমিকা,
আমার বাংলা শব্দবিধুর ক্ষণিকা।
বাংলা আমার অক্ষররেণু যামিনী,

আমার বাংলা জন্মমরণবাহিনী।

1 comment: